ভিপিএন কি, কিভাবে কাজ করে এবং কেন ব্যবহার করব?

0

ভিপিএন নিয়ে লিখব বলার পর অনেক রিকুয়েস্ট পাচ্ছিলাম লেখার জন্য। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে একটু দেরিতে লিখতে হচ্ছে। তার জন্য দুঃখিত। যাইহোক, শুরু করা যাক।

প্রথমেই প্রশ্ন আসে ভিপিএন (VPN) মানেটা কি? খায় না মাথায় দেয়? আসলে খায়ও না, আবার মাথায়ও দেয় না। ভিপিএন হল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Virtual Private Network)। নাম থেকেও আন্দাজ করা যায় যে, ভিপিএন কোন ফিজিক্যাল নেটওয়ার্ক না, ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক। তাই এই কানেকশন নিতে আপনার বাসায় ইয়া বড় বড় যন্ত্রপাতি বসাতে হবে না। ভার্চুয়ালি সব হবে। নামের মধ্যে প্রাইভেট শব্দটাও আছে। বোঝাই যাচ্ছে, এটা পাবলিক নয়, পার্সোনাল নেটওয়ার্ক। ফলে সিকিউরিটি বেশ ভালোই হবে। এই গেল কি এর উত্তর। এবার কিভাবে কাজ করে সেটা জানা যাক।

ধরুন বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধ চলছে। সময়টা ১৯৭১। ওয়েট ওয়েট ওয়েট, আমি জানি এখন কি বলবেন। আচ্ছা ধরে নেন, ১৯৭১ সালে বর্তমানের মত উন্নত ইন্টারনেট সার্ভিস ছিল 😜 ধরলাম এখানে উমর ফারুক নামে একজন বীর যোদ্ধা অন্য এক যোদ্ধার সাথে ফেসবুকে মেসেজের মাধ্যমে অন্য যোদ্ধাকে যুদ্ধের পরিস্থিতি জানাবে। কিন্তু দেশের নেটওয়াকিং সিস্টেম তো পুরোপুরি পাকিস্তান সরকারের হাতে। তারা চালাকি করে এই রিজিয়নের জন্য ফেসবুককে ব্লক করে দিল। এখন উমর ফারুক পড়লেন বিপাকে। ফেসবুকে ঢুকতে পারছেন না।

তারপর তিনি হতাশ হয়ে বিটিভি দেখতে বসলেন। বিটিভিতে হটাৎ তার জন্য আশার বানি নিয়ে আসলো এক বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটি ছিল বল্টু ভিপিএনের। এই ভিপিএন ব্যবহার করলে ব্লক হওয়া ফেসবুক ব্যবহার করা যাবে বলে জানা গেল। উমর ফারুককে আর পায় কে! দ্রুত ভিপিএন ডাউনলোড করে পাকিস্তান সরকারের চোখ এড়িয়ে, ফেসবুকে ঢুকে অপর যোদ্ধার সাথে অসমাপ্ত ডেটা শেয়ারিং সেরে নিলেন।

এখন প্রশ্ন কিভাবে এতকিছু হল? ভিপিএন অনেকটা টানেল বা সুড়ঙ্গের মত কাজ করে। ভিপিএনে যখন কানেক্ট করবেন, তখন তারা আপনাকে একটা সার্ভারে কানেক্ট করিয়ে দিবে। কিন্তু তাতে কি লাভ? যারা একটু কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সম্মন্ধে আইডিয়া রাখেন তারা খানিকটা আঁচ করে ফেলেছেন নিশ্চয়ই? জ্বী হ্যাঁ, প্রতিটা সার্ভারের আইপি এড্রেস (IP Address) থাকে। তারা আপনার আইপির বদলে তাদের সার্ভার আইপি ব্যবহার করতে দিচ্ছে। তাতে লাভ আরেকটা হচ্ছে। আপনি তাদের সার্ভারের মাধ্যমে যেকোনো ওয়েবসাইটে কানেক্টেড হচ্ছেন। ফলে আপনার আইএসপি (ISP) বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (Internet Service Provider) জানতেই পারছে না যে আপনি ফেসবুকে ঢুকছেন। কেননা ফেসবুকের কাছে আপনার আইএসপি থেকে সরাসরি কানেকশন যাচ্ছে না, বরং সেই ভিপিএন সার্ভারের মাধ্যমে যাচ্ছে। তাই একে তো আপনার আইপি এড্রেস পাচ্ছে না, অন্যদিকে আপনার কোন ট্রেস থাকছে না। মানে আপনি ধরাছোঁয়ার বাইরে 😎

আচ্ছা সবই নাহয় বুঝলাম। কিন্তু কি কি কাজে এটা ব্যবহার করতে পারব বা সুবিধাদি কি কি?

১. আইপি এড্রেস হাইড করে গোপনে ব্রাউজ করতে পারবেন। কোথাও আপনার ফুটপ্রিন্ট থাকবে না।
২. আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরি বা ট্রেস থাকবে না আইএসপির কাছে।
৩. ব্লক হওয়া ওয়েবসাইটগুলো সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
৪. অনলাইনে নিজের নিরাপত্তা থাকছে।
৫. যেকোনো ডেটা নিরাপদে আদান-প্রদান করতে পারছেন। ফলে কিছু ফাঁস বা লিক হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাচ্ছেন।
৬. এক দেশে অবস্থান করে অন্য দেশের আইপি এড্রেস ব্যবহার করে সেই দেশের কোন অতিরিক্ত সুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন।

একটা বড় ভুল করে ফেলেছি। এই পোস্টের আগে আইপি এড্রেস নিয়ে লেখা উচিত ছিল। তবে চিন্তার কিছু নেই। শীঘ্রই আসছে। এছাড়াও পরবর্তীতে ক্রিপ্টোকারেন্সি, ওয়েবসাইট, সার্ভার এসব নিয়ে আর্টিকল লিখব (ইন শা আল্লাহ)।

একটি উত্তর লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
খানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে